আলোচিত সাত খুন মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেন-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত চিহ্নিত চাঁদাবাজ সালাউদ্দিন নতুন করে স্ট্যান্ড দখলে তৎপর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দলবল নিয়ে স্ট্যান্ডে এসে গাড়ির মালিক ও চালকদের প্রকাশ্যে হুমকি দেয় তার অনুসারীরা এমনটাই জানিয়েছেন গাড়ির মালিকরা।
হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে থাকলেও, সহযোগীদের মাধ্যমে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া এই রাজনৈতিক গিরগিটি এমন মন্তব্য ক্ষুব্ধ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত সাত খুন মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের ক্যাডার হিসেবে অপরাধ জগতে হাতেখড়ি সালাউদ্দিনের।
এক সময় নূর হোসেনের মাদক ব্যবসার প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিল এই সালাউদ্দিন। ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে রাতারাতি বিএনপি সেজে স্ট্যান্ড দখল রাখার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। গত ১৫ নভেম্বর ২৪ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত ইব্রাহীম হোসেন (১৯) হত্যা চেষ্টা মামলায় তাকে আসামি করার পর সে আত্মগোপনে চলে যায়। কিন্তু মাঠ ছাড়েনি তার ক্যাডার বাহিনী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সালাউদ্দিন নিজে সামনে না এলেও তার একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিত স্ট্যান্ডে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চালক বলেন, সালাউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বলে ক্ষমতা যেই পাক, আবার সময় এলে দেখে নেওয়া হবে।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র। এমনকি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাবেক এক কর্মকর্তাকে মাসোহারা দিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেছে বলেও স্থানীয়দের দাবি।
গত ১৪ আগস্ট গণমাধ্যমের সামনে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করার পরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। সালাউদ্দিন আসামি হওয়ার পর এলাকায় সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও, রবিবার তার অনুসারীদের উপস্থিতিতে ফের ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
পরিবহন শ্রমিকদের ভাষ্য এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট নির্মূল না হলে সাধারণ মানুষের রুটি-রুজি হুমকির মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে সালাউদ্দিন ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মিজানকে গ্রেপ্তার করে স্ট্যান্ডে স্থায়ী শান্তি ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন