ক্ষমতাসীনদের খুশি রেখে চলছে বিএনপি।

দৈনিক নারায়নগঞ্জ: টানা এক যুগেরও বেশী সময় ধরে ক্ষমতার সাধ গ্রহন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগসহ তাদের শরীকদলগুলো।

দীর্ঘদীন ক্ষমতায় থাকার পরও দলীয় কোন্দল নিরসন করতে পারেনি দলের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ। ফলে দলীয় বিভেদের কারনে নারায়ণগঞ্জ জেলায় আওয়ামী লীগের দ্বিধাবিভক্তি অনেক পুরনো। অন্যদিকে বিএনপিতে কোন্দল থাকলেও অস্তিত্ব ধরে রেখেছে। নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পাঁচশর বেশি মামলার খড়গ নিয়েও দলটি সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রাণভোমরা শামীম ওসমান। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনেই তার যথেষ্ট প্রভাব। দলের অপর নেতা সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী নিজস্ব বলয় নিয়ে আলাদাভাবে রাজনীতি করছেন। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা সভাপতি আবদুল হাই, সহসভাপতি সিটি মেয়র আইভী ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত বাদল। জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শামীম ও আইভী দ্বন্ধ থাকলেও শামীম ওসমান বলয়ের সঙ্গে রয়েছে সদর-বন্দর আসনের জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান ও সোনারগাঁ আসনের জাতীয় পার্টির অপর এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। অপরদিকে সিটি মেয়র আইভী বা পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সঙ্গে আছেন আড়াইহাজার আসন আড়াইহাজারের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। এই দুই বলয় নিয়েই চলছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি। এদিকে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি, মামুন মাহমুদকে সেক্রেটারি করে জেলা বিএনপির ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। তিন বছরের মাথায় গত ২১ ফেব্রুয়ারি কাজী মনির ও সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। পরে তৈমূর আলমকে আহবায়ক ও মামুন মাহমুদকে সদস্য সচিব করে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। তারা এখনো পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের এই আমলে সৌভাগ্যবশত আওয়ামী লীগের অনেক নেতার চেয়ে বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন বিএনপির আলোচিত চার নেতা। এরা হলেন সম্প্রতি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, বিএনপি নেতা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ বিশ্বাস, যুবদল নেতা সিটি কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, বিএনপি নেতা বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল। তবে সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে রাজপথে মিছিল মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। বিএনপিতে রয়েছে নেতাভিত্তিক চরম কোন্দল। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ ও বিএনপির রাজনীতিতে দলীয় কোন্দল দ্রুত নিরসন করা না হলে এর প্রভাব দলে পড়বে বলেও মনে করছেন দলের তৃনমূল নেতৃবৃন্দ। দলীয় কোন্দলের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে দলীয় বিভেদ কিংবা বলয় নেই। একটি পক্ষ দলীয় বিভেদ কিংবা বলয়ের অভিযোগ এনে স্বার্থ হাছিলের চেষ্টা করে। এমনকি দল আলোচনায় আসার জন্য দলের ভিতর দলীয় বিভেদ রয়েছে এমন অভিযোগ এনে লাইমলাইনে আসার চেষ্টা করে। তবে এটা সত্য বড় দল হিসেবে সামান্য মত পার্থক্য থাকতে পারে আর এটা থাকবেও। আর এর জন্য দলীয় কোন্দল এমন ধারনাটা সম্পূর্ণই ভূল। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড.তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, বিএনপিতে ত্যাগী ও যোগ্য নেতার বড়ই অভাব। আর এজন্য কেন্দ্র পূরানো কমিটি ভেঙ্গে দিয়েছে। পরে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হলেও তৃনমূল নেতা কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। মামলার জটিলতার কারণে মহানগর বিএনপি ঝুলে রয়েছে। পুরনো কমিটি দিয়েই চলছে তাদের কর্যক্রম।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন
.print-btn{ background:#222; color:#fff; padding:8px 14px; border-radius:4px; display:inline-block; font-weight:600; } .print-btn:hover{ background:#000; }